ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না-
ওকে দাও ছেড়ে দাও ছেড়ে।
মন নাই যদি দিল নাই দিল,
মন নেয় যদি নিক্ কেড়ে ।।
এ কী খেলা মোরা খেলেছি,
শুধু নয়নের জল ফেলেছি-
ওরই জয় যদি হয় জয় হোক্
মোরা হারি যদি যাই হেরে ।।
এক দিন মিছে আদরে
মনে গরব সোহাগ না ধরে,
শেষে দিন না ফুরাতে ফুরাতে
সব গরব দিয়েছে সেরে।
ভেবেছিনু ওকে চিনেছি,
বুঝি বিনা পণে ওকে কিনেছি-
ও যে আমাদেরই কিনে নিয়েছে,
ও যে তাই আসে, তাই ফেরে ।।
Monday, March 8, 2010
ও যে মানে না মানা
ও যে মানে না মানা ।
আঁখি ফিরাইলে বলে 'না, না, না' ।।
যত বলি 'নাই রাতি-
মলিন হয়েছে বাতি'
মুখপানে চেয়ে বলে, 'না, না, না' ।।
বিধুর বিকল হয়ে খেপা পবনে ।
ফাগুন করিছে হা-হা ফুলের বনে ।
আমি যত বলি 'তবে
এবার যে যেতে হবে'
দুয়ারে দাঁড়ায়ে বলে, 'না, না, না' ।।
আঁখি ফিরাইলে বলে 'না, না, না' ।।
যত বলি 'নাই রাতি-
মলিন হয়েছে বাতি'
মুখপানে চেয়ে বলে, 'না, না, না' ।।
বিধুর বিকল হয়ে খেপা পবনে ।
ফাগুন করিছে হা-হা ফুলের বনে ।
আমি যত বলি 'তবে
এবার যে যেতে হবে'
দুয়ারে দাঁড়ায়ে বলে, 'না, না, না' ।।
ও দেখা দিয়ে যে চলে গেল
ও চুপিচুপি কী বলে গেল ।
যেতে যেতে গো, কাননেতে গো
ও কত যে ফুল দ'লে গেল ।।
মনে মনে কী ভাবে কে জানে,
মেতে আছে ও যেন কী গানে,
নয়ন হানে আকাশ-পানে--
চাঁদের হিয়া গ'লে গেল ।।
ও পায়ে পায়ে যে বাজায়ে চলে
বীণার ধ্বনি তৃণের দলে ।
কে জানে কারে ভালো কি বাসে,
বুঝিতে নারি কাঁদে কি হাসে,
জানি নে ও কি ফিরিয়া আসে-
জানি নে ও কি ছ'লে গেল ।।
যেতে যেতে গো, কাননেতে গো
ও কত যে ফুল দ'লে গেল ।।
মনে মনে কী ভাবে কে জানে,
মেতে আছে ও যেন কী গানে,
নয়ন হানে আকাশ-পানে--
চাঁদের হিয়া গ'লে গেল ।।
ও পায়ে পায়ে যে বাজায়ে চলে
বীণার ধ্বনি তৃণের দলে ।
কে জানে কারে ভালো কি বাসে,
বুঝিতে নারি কাঁদে কি হাসে,
জানি নে ও কি ফিরিয়া আসে-
জানি নে ও কি ছ'লে গেল ।।
ও চাঁদ চোখের জলের লাগল জোয়ার
ও চাঁদ, চোখের জলের লাগল জোয়ার দুখের পারাবারে,
হল কানায় কানায় কানাকানি এই পারে ওই পারে ।।
আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন যে তার গেল খুলে ;
তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন্ অচেনার ধারে ।।
পথিক সবাই পেরিয়ে গেল ঘাটের কিনারাতে,
আমি সে কোন্ আকুল আলোয় দিশাহারা রাতে ।
সেই পথ-হারানোর অধীর টানে অকুলে পথ আপনি টানে,
দিক ভোলাবার পাগল আমার হাসে অন্ধকারে ।।
হল কানায় কানায় কানাকানি এই পারে ওই পারে ।।
আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন যে তার গেল খুলে ;
তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন্ অচেনার ধারে ।।
পথিক সবাই পেরিয়ে গেল ঘাটের কিনারাতে,
আমি সে কোন্ আকুল আলোয় দিশাহারা রাতে ।
সেই পথ-হারানোর অধীর টানে অকুলে পথ আপনি টানে,
দিক ভোলাবার পাগল আমার হাসে অন্ধকারে ।।
ও চাঁদ চোখের জলের লাগল জোয়ার
ও চাঁদ, চোখের জলের লাগল জোয়ার দুখের পারাবারে,
হল কানায় কানায় কানাকানি এই পারে ওই পারে ।।
আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন যে তার গেল খুলে ;
তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন্ অচেনার ধারে ।।
পথিক সবাই পেরিয়ে গেল ঘাটের কিনারাতে,
আমি সে কোন্ আকুল আলোয় দিশাহারা রাতে ।
সেই পথ-হারানোর অধীর টানে অকুলে পথ আপনি টানে,
দিক ভোলাবার পাগল আমার হাসে অন্ধকারে ।।
হল কানায় কানায় কানাকানি এই পারে ওই পারে ।।
আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন যে তার গেল খুলে ;
তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন্ অচেনার ধারে ।।
পথিক সবাই পেরিয়ে গেল ঘাটের কিনারাতে,
আমি সে কোন্ আকুল আলোয় দিশাহারা রাতে ।
সেই পথ-হারানোর অধীর টানে অকুলে পথ আপনি টানে,
দিক ভোলাবার পাগল আমার হাসে অন্ধকারে ।।
ও কেন চুরি করে চায়
ও কেন চুরি ক'রে চায় ।
নুকোতে গিয়ে হাসি হেসে পালায় ।।
বনপথে ফুলের মেলা, হেলে দুলে করে খেলা--
চকিতে সে চমকিয়ে কোথা দিয়ে যায় ।।
কি যেন গানের মতো বেজেছে কানের কাছে,
যেন তার প্রাণের কথা আধেকখানি শোনা গেছে ।
পথেতে যেতে চ'লে মালাটি গেছে ফেলে--
পরানের আশাগুলি গাঁথা যেন তায় ।।
নুকোতে গিয়ে হাসি হেসে পালায় ।।
বনপথে ফুলের মেলা, হেলে দুলে করে খেলা--
চকিতে সে চমকিয়ে কোথা দিয়ে যায় ।।
কি যেন গানের মতো বেজেছে কানের কাছে,
যেন তার প্রাণের কথা আধেকখানি শোনা গেছে ।
পথেতে যেতে চ'লে মালাটি গেছে ফেলে--
পরানের আশাগুলি গাঁথা যেন তায় ।।
ও আমার ধ্যানেরই ধন
ও আমার ধ্যানেরই ধন,
তোমার হৃদয়ে দোলায় যে হাসি রোদন ।।
আসে বসন্ত, ফোটে বকুল,
কুঞ্জে পূর্ণিমাচাঁদ হেসে আকুল-
তারা তোমায় খুঁজে না পায়,
প্রাণের মাঝে আছ গোপন স্বপন ।।
আঁখিরে ফাঁকি দাও, একি ধারা !
অশ্রুজলে তারে কর সারা ।
গন্ধ আসে, কেন দেখি নে মালা ।
পায়ের ধ্বনি শুনি, পথ নিরালা ।
বেলা যে যায়, ফুল যে শুকায়--
অনাথ হয়ে আছে আমার ভুবন ।।
তোমার হৃদয়ে দোলায় যে হাসি রোদন ।।
আসে বসন্ত, ফোটে বকুল,
কুঞ্জে পূর্ণিমাচাঁদ হেসে আকুল-
তারা তোমায় খুঁজে না পায়,
প্রাণের মাঝে আছ গোপন স্বপন ।।
আঁখিরে ফাঁকি দাও, একি ধারা !
অশ্রুজলে তারে কর সারা ।
গন্ধ আসে, কেন দেখি নে মালা ।
পায়ের ধ্বনি শুনি, পথ নিরালা ।
বেলা যে যায়, ফুল যে শুকায়--
অনাথ হয়ে আছে আমার ভুবন ।।
ওগো এত প্রেম-আশা
ওগো এত প্রেম-আশা, প্রাণের তিয়াষা কেমনে আছে সে পাশরি ।
তবে সেথা কি হাসে না চাঁদিনী যামিনী, সেথা কি বাজে না বাঁশরি ।।
সখী, হেথা সমীরণ লুটে ফুলবন, সেথা কি পবন বহে না ।
সে যে তার কথা মোরে কহে অনুক্ষণ, মোর কথা তারে কহে না !
যদি আমারে আজি সে ভুলিবে সজনী, আমারে ভুলালে কেন সে ।
ওগো এ চিরজীবন করিব রোদন, এই ছিল তার মানসে ।
যবে কুসুমশয়নে নয়নে নয়নে কেটেছিল সুখরাতি রে,
তবে কে জানিত তার বিরহ আমার হবে জীবনের সাথি রে ।
যদি মনে নাহি রাখে, সুখে যদি থাকে, তোরা একবার দেখে আয়-
এই নয়নের তৃষা, পরানের আশা, চরণের তলে রেখে আয় ।
আর নিয়ে যা রাধার বিরহের ভার, আর কত ঢেকে রাখি বল্ ।
আর পারিস যদি তো আনিস হরিয়ে এক-ফোঁটা তার আঁখিজল ।
না না, এত প্রেম, সখী, ভুলিতে যে পারে তারে আর সেধো না ।
আমি কথা নাহি কব, দুখ লয়ে রব, মনে মনে স'ব বেদনা ।
ওগো মিছে মিছে, সখী, মিছে এই প্রেম, মিছে পরানের বাসনা ।
ওগো সুখদিন হায় যবে চলে যায় আর ফিরে আর আসে না ।
তবে সেথা কি হাসে না চাঁদিনী যামিনী, সেথা কি বাজে না বাঁশরি ।।
সখী, হেথা সমীরণ লুটে ফুলবন, সেথা কি পবন বহে না ।
সে যে তার কথা মোরে কহে অনুক্ষণ, মোর কথা তারে কহে না !
যদি আমারে আজি সে ভুলিবে সজনী, আমারে ভুলালে কেন সে ।
ওগো এ চিরজীবন করিব রোদন, এই ছিল তার মানসে ।
যবে কুসুমশয়নে নয়নে নয়নে কেটেছিল সুখরাতি রে,
তবে কে জানিত তার বিরহ আমার হবে জীবনের সাথি রে ।
যদি মনে নাহি রাখে, সুখে যদি থাকে, তোরা একবার দেখে আয়-
এই নয়নের তৃষা, পরানের আশা, চরণের তলে রেখে আয় ।
আর নিয়ে যা রাধার বিরহের ভার, আর কত ঢেকে রাখি বল্ ।
আর পারিস যদি তো আনিস হরিয়ে এক-ফোঁটা তার আঁখিজল ।
না না, এত প্রেম, সখী, ভুলিতে যে পারে তারে আর সেধো না ।
আমি কথা নাহি কব, দুখ লয়ে রব, মনে মনে স'ব বেদনা ।
ওগো মিছে মিছে, সখী, মিছে এই প্রেম, মিছে পরানের বাসনা ।
ওগো সুখদিন হায় যবে চলে যায় আর ফিরে আর আসে না ।
Subscribe to:
Comments (Atom)